১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৭ পি এম
তারুণ্যের আত্মপাঠে বিদ্রোহী নজরুল
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘বিদ্রোহের স্বরলিপি’ নজরুল জয়ন্তী উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টায় কেন্দ্রটির ৫০৫ নম্বর মিলনায়তনে কবি নজরুল সরকারি কলেজ আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন। কালচারাল রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও নজরুল গবেষক নাসিম আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লেখক ও প্রকাশক এম তারিক হাসিব। তিনি বলেন, "সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। নজরুলকে আমাদের ধারণ করা উচিত। আমাদের প্রজন্মের প্রয়োজনে নজরুল আজও সমান প্রাসঙ্গিক।"
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট নাসিম আহমেদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, "আমাদের প্রজন্মের প্রয়োজনে নজরুল আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বিদ্রোহী কবি নজরুলের সমাজচিন্তা তরুণদের আত্মপরিচয় গঠনে দিকনির্দেশনা দেয়। নজরুলকে আমাদের চিন্তায় ও চেতনায় ধারণ করা উচিত।" এরপর ‘বিদ্রোহী কবি নজরুলের সমাজচিন্তা: তারুণ্যের আত্মপাঠ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কথাশৈলী আবৃত্তি চক্রের পরিচালক রহমতুল্লাহ রাজন, লেখক ও সম্পাদক সীমান্ত আকরাম এবং লেখক ও আলোচক ইনামুল হাসান মোহাম্মদ নাঈম।
আলোচক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, "নজরুলকে আমরা বাঁচিয়ে রাখছি কথাটির সঙ্গে আমি সসম্মানে দ্বিমত করি। নজরুল বেঁচে আছেন আপন প্রতিভায়। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের মুক্তির জন্য, আমাদের স্বাধীনতার জন্য নজরুলকে দরকার।" বক্তারা নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা, সাম্যবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং বর্তমান তরুণ সমাজ গঠনে কবির কালজয়ী দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি মো. জেহাদ উদ্দিন বলেন, "আমরা তো অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছি, তার মধ্যে আমাদের একটি বড় বন্ধ্যাত্ব হচ্ছে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব। সে জায়গায় কবি নজরুল সরকারি কলেজ আবৃত্তি সংসদ এগিয়ে এসেছে, আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।" তিনি আরও বলেন, "কবি নজরুলকে যতবেশি জানবেন, ততবেশি তার প্রতি ভালোবাসা বাড়বে, শ্রদ্ধা বাড়বে। তার মধ্যে বৈষম্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আমরা আহ্বান করবো নজরুলকে জানুন, তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সৃষ্টিশীল জীবনকে জানুন। নজরুলকে যতবেশি জানবেন সমাজ ততবেশি আলোকিত হবে।" সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন, কিডস কালচারাল একাডেমির পরিচালক ইমাম হোসাইন এবং ওয়াদুদুর রহমান রাহুল। এছাড়াও ভয়েস আর্টিস্ট বাংলাদেশ-এর সভাপতি লাবণ্য মল্লিক ও আদিবা ইসলাম তুবা আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত প্রতিযোগিতা। আবৃত্তি, সংগীত ও রচনা—এই তিনটি বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও উপস্থাপক এম. সাব্বির আহমেদ জানান, নজরুল জয়ন্তী উদযাপনের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে নজরুলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।