২২ জুন, ২০২৬ ০৯:৪৪ এএম
সমকালীন বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ। শুক্রবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
যৌথ এক শোক বার্তায় দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছুর ও সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, "আল মুজাহিদী শুধু কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের প্রজন্মের আবেগ, স্বপ্ন ও প্রতিবাদের ভাষা। তাঁর কবিতায় মিশেছে মাটির গন্ধ, মুক্তির চেতনা আর মানবতার কান্না। তাঁর ‘মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা’ কিংবা ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’—প্রতিটি গ্রন্থ আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও লেখনী আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে।”
নেতৃবৃন্দ শোকবার্তায় আরও বলেন, “কবি আল মুজাহিদী ছিলেন সাহিত্যের পথপ্রদর্শক। দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক ও বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদনা করে তিনি যেমন বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি অসংখ্য তরুণ লেখককে তৈরি করেছেন। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক বিরাট শূন্যতা। আমরা তাঁর কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।”
কবিদের সংগঠন কবিতা বাংলাদেশ-এর সভাপতি আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী পলিন পারভীন, ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী, মেয়ে মারিয়ামা জাবীন আল মুজাহিদী, নাতি–নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়।
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান ও সেক্রেটারি ইব্রাহিম বাহারী, সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি মাহবুব মুকুল ও সেক্রেটারি আল্লামা ইকবাল, বাংলাদেশ সংগীত কেন্দ্রের সভাপতি গীতিকার সুরকার তাফাজ্জল হোসাইন খান ও সেক্রেটারি শিল্পী আকরাম মুজাহিদ, কবিতা বাংলাদেশ-এর সভাপতি ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, চলচ্চিত্র ও নাট্য সংসদের সভাপতি মাহবুব মুকুল ও সেক্রেটারি মুস্তাগিছুর রহমান, বাংলাদেশ চারুশিল্পী পরিষদের সভাপতি কার্টুনিস্ট ইব্রাহিম মণ্ডল ও সেক্রেটারি মুফাসসির আহমদ ফয়েজী।
কবি আল মুজাহিদীর জন্ম ১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি, টাঙ্গাইলে। তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশিকাল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর কুড়িটির অধিক কাব্যগ্রন্থসহ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুতোষ গ্রন্থও রচনা করেছেন।
তার কাব্যগ্রন্থ—হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে প্রভৃতি।
উপন্যাসসমূহ—প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রুপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। গল্পগ্রন্থ—প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ। শিশুসাহিত্য—হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ইস্টিশানে হুইসেল। প্রবন্ধগ্রন্থ—সমাজ ও সমাজতত্ত্ব। অনুবাদগ্রন্থ—কাইফি আজমির কবিতা, পৃথিবীর কবিতা, আহমদ ফরাজের কবিতা, ঊর্দূ কবিতা, হিন্দি কবিতা ও হাইনরীশ হাইনের কবিতা। গবেষণাগ্রন্থ—কালান্তরের যাত্রী।