১১ জুন, ২০২৬ ১৬:৩০ পি এম
জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস
আরিফ হোসেন সবুজ
একটি জাতির বুক থেকে জ্বলে ওঠা দ্রোহের নাম জুলাই,
জুলাই ছিল জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অগ্নিবিস্ফোরণ,
যেখানে রক্তের প্রতিটি ফোঁটা হয়ে উঠেছিল বজ্রধ্বনি,
আর মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছিল স্বাধীনতার শপথ।
যখন জনগণের টাকায় বুলেট কিনে
জনগণের বুকেই তা চালিয়েছে হিংস্র হায়েনার মতো
তখনই মূলত বেজে গিয়েছিল স্বৈরাচারের পতনধ্বনি।
খুনি-জালিম-স্বৈরাচার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে,
রক্তে রঞ্জিত করেছে রাজপথ, বিশ্ববিদ্যালয়,
আর দেশপ্রেমিক মানুষের ঘর-বাড়ি-উঠোন।
মজলুমের আর্তনাদ শুরুতে ছিল শুধু অভিশাপ
তারপর তা পরিণত হয়েছিল বজ্রধ্বনিতে।
যখন আবু সাঈদ, ওয়াসিম, শান্ত, মুগ্ধরা নেমে এল রাজপথে
তখন পুরো দেশ নেমে এল তাদের সাথে,
জাতির বুকে জ্বলে উঠল আশার আলো।
কিন্তু স্বৈরাচার ভুলে গিয়েছিল
মানুষের কণ্ঠ কখনো দমন করা যায় না,
একজনের কণ্ঠ দমন করলে আরও হাজার কণ্ঠস্বর জন্ম নেয়,
আর কন্ঠস্বর দমন করলে
জন্ম নেয় জাতির জাগরণ।
সেই জাগরণই জুলাইয়ের রাজপথ কাঁপিয়েছে,
যেন আগুনের ওপর আগুন, দুঃস্বপ্নের ভেতরেও বজ্রপাত।
স্বৈরাচার তখনো ভেবেছিল সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে।
কিন্তু যে জাতি শহিদি তামান্নায় বেড়ে ওঠে
সেই জাতিকে থামানোর শক্তি কোনো বন্দুকের নেই।
জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস লেখা হয়েছে
শহরের দেয়ালে, রাস্তায়, গোরস্থানে,
হাসপাতালের বিছানায়
আর মানুষের রক্তের ভেতর।
জুলাইয়ের আগুনে জ্বলেছে স্বৈরাচারীর তক্ত প্রাসাদ,
জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে দুঃশাসন।
এ দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও
জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে
গণমানুষকে কখনো থামানো যায় না, দমন করা যায় না।
একবার রুখে দাঁড়ালে
জয় জনগণেরই হয়।