শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম :
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর কোনো অবদান নেই, এমন একটি প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর কোনো অবদান নেই, এমন একটি প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশীয়’র নববর্ষ প্রকাশনা ২০২৬-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত দেশীয়’র নববর্ষ প্রকাশনা ২০২৬-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত অভিনয় ছেড়ে নেকাবে ফিরলেন শিশুশিল্পী লুবাবা অভিনয় ছেড়ে নেকাবে ফিরলেন শিশুশিল্পী লুবাবা চিরবিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদীর ইন্তেকালে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের শোক চিরবিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদীর ইন্তেকালে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের শোক তাইরান লেখক সম্মাননা-২০২৫ পাচ্ছেন যারা তাইরান লেখক সম্মাননা-২০২৫ পাচ্ছেন যারা দিনব্যাপী ছোটদের সময়–যুগপূর্তি শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৫, রেজিস্ট্রেশন চলছে দিনব্যাপী ছোটদের সময়–যুগপূর্তি শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৫, রেজিস্ট্রেশন চলছে শান্তির ছায়া প্রোডাকশন হাউজ প্রকাশ করল ইতিহাসভিত্তিক কার্টুন “শাহজালাল” শান্তির ছায়া প্রোডাকশন হাউজ প্রকাশ করল ইতিহাসভিত্তিক কার্টুন “শাহজালাল” সীরাত স্মারকের মোড়ক উন্মোচন ও লেখক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সীরাত স্মারকের মোড়ক উন্মোচন ও লেখক সম্মেলন অনুষ্ঠিত রংপুরে দেশীয়'র সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত রংপুরে দেশীয়'র সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত বগুড়া কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বগুড়া কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
  • যাকাত আপনার উপরও ফরয হয়েছে, ভেবে দেখেছেন কি?

    (১ম কিস্তি)

    ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক

    ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ ১৩:১৩ পি এম

    যাকাত আপনার উপরও ফরয হয়েছে, ভেবে দেখেছেন কি?

    যাকাত ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ। প্রত্যেক ধনবান বক্তিদের জন্য যাকাত প্রদান করা ফরয তথা অত্যাবশ্যকীয় একটি ইবাদত। তবে বর্তমানে এটিকে একটি অবহেলিত ইবাদত বললেও ভুল হবে না। কারণ এমন ধনবান মুসলিম ব্যক্তি অনেকই আছেন যারা নামায পড়েন বটে কিন্তু যাকাত আদায় করেন না। এর কারণ হলো: যাকাত বিষয়ক সঠিক মাসআলা মাসায়েল না জানা, যাকাত সম্পর্কে যুগযুগ ধরে চলে আসা আমাদের সমাজের চিরাচরিত রসম-রেওয়াজ এবং সর্ব্বোপরি যাকাত সম্পর্কে উদাসীনতা।

    অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমের ধারণা যাকাত তো দেবে বড়লোকে। তারা মনে করে থাকেন, নিজের বা পরিবারের অধিকারে থাকা মূল্যবান দ্রব্যাদি যেমন স্বর্ণ-রৌপ্যালঙ্কার, দামী রত্ন বা এ ধরণের জিনিস থাকলেই কেবল যাকাত দিতে হবে। যারা কোটিপতি, বড় লোক তারাই তো যাকাত দেবে। আমরা তো গরিব মানুষ আমাদের তো অত সম্পদ নেই, তাই আমাদের যাকাত দিতে হবে না।

    আসলে কী পরিমান সম্পদ থাকলে যাকাত দিতে হয় তা অনেকেই জানেন না। অনুমানের ভিত্তিতেই এরুপ কথা বলে থাকেন। মনে রাখতে হবে হাতে গচ্ছিত নগদ অর্থ, শেয়ার সার্টিফিকেট, প্রাইজবণ্ড, ব্যাংকের ডিপিএস ও সার্টিফিকেটসমূহ, স্বর্ণ-রৌপ্য, মূল্যবান ধাতু ও সোনা-রুপার অলংকার, বাণিজ্যিক সম্পদ ও শিল্পজাত ব্যবসায় প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ, উৎপাদিত কৃষিজাত ফসল, গবাদি পশু, খনিজ দ্রব্য এসব কিছুর উপরই যাকাত দিতে হবে, কিন্তু সেটা হবে নিসাব অনুসারে। নিসাব একটি ইসলামি শব্দ। এর মানে হচ্ছে দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বাদ দেয়ার পর সাড়ে বায়ান্ন তোলা পরিমাণ রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা পরিমাণ স্বর্ণ থাকলে অথবা এর  সমপরিমান অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্যের মালিকানা থাকলে তাকে যাকাতের নিসাব বলে। এই পরিমান সম্পদ যদি কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের কাছে থাকে তাহলে তাকে যাকাত আদায় করতে হবে।

    উপরোক্ত বর্ণনা মোতাবেক বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে বর্তমান (২০২৪ সালের রমজান মাসে ৫২.৫ তোলা রূপার মুল্য নিসাব ধরে) বাজার মূল্যে কারো নিকট যদি নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে বছরান্তে ১০৫০০০ হাজার টাকা বা সমপরিমান ব্যবসায়িক পন্য থাকে তা হলে তার উপর যাকাত ফরয।

    বাংলাদেশে বর্তমানে এরুপ অনেক পরিবারই আছে যাদের কাছে বিভিন্নভাবে উক্তরুপ সম্পদ মওজুদ থাকে  বা আছে। অথচ তারা তা না জানার কারণে বলে থাকে যে, তাদের উপর যাকাত ফরয নয়। দুঃখের সাথে বলতে হয়, যাকাতের মতো একটি ফরয ইবাদত এভাবে অবহেলায় অজ্ঞতার কারণে আদায় হচ্ছে না। ফলে ব্যক্তি নিজে গুনাহগার হচ্ছে, আর সমাজের নিপীড়িত মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। যাকাত প্রদান না করার এরুপ অসংখ্য কারণ আমাদের সমাজে বিরাজমান। যাকাত সমপর্কে সঠিক জ্ঞান ও  মাসআলা-মাসায়েল না জানার কারণে কখন কোন অবস্থায় কার উপর যাকাত ফরয হয় তা অনেকেই জানেন না। এরুপ অসংখ্য অজানা বিষয়ের মাধ্যমে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি আলোচ্য প্রবন্ধটি সাজাতে।

    যাকাত ফরয হওয়ার অসংখ্য অজানা কারণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় নিম্নে আলোচনা করা হলো:

    এক. নগদ অর্থ থাকা না থাকায় যাকাত সমহারে প্রযোজ্য:

    সাধারণত যে ধরনের সম্পদে যাকাত প্রযোজ্য হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো, নগদ অর্থ। এ নগদ অর্থ বলতে কী বোঝায় তা নিয়ে আমাদের সমাজে ভুল বুঝাবুঝি আছে। কেউ কেউ বুঝে থাকেন যে, নিজের যে সকল টাকা-পয়সা, ডলার, পাউণ্ড ইত্যাদি মুদ্রা যা নিজের হাতে বা নিজের কব্জায় থাকে তাই নগদ অর্থ। আসলে বিষয়টি তা নয়। নগদ অর্থ বলতে শুধু ব্যাংক নোট তথা টাকা, ডলার, পাউন্ড, ইউরো, রিয়াল ও অন্যান্য মুদ্রাকেই বুঝায় না; বরং এসব মুদ্রার পাশপাশি ব্যাংক চেক, বিল, বিনিয়োগ সার্টিফিকেট, শেয়ার সার্টিফিকেট, বন্ড, প্রাইজবন্ড, ফিক্সড ডিপোজিট, ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফাণ্ড, টিসি, ওযেজ আর্নার বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবেঞ্চার, টিডিআর, বীমা, ডিপোজিট পেনশন স্কিম, ডিজিটাল কারেন্সি ও অন্যান্য কাগজপত্র যার বৈষয়িক মূল্য রয়েছে সেগুলোও নগদ অর্থ বা নগদ মুদ্রার অন্তর্ভুক্ত। এমন কী নিজের টাকা অন্যের কাছে ধার হিসেবে দেয়া থাকলেও তাও নগদ অর্থ হিসেবে গন্য হবে, যদি তা তাৎক্ষনিক পাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রকৃতপক্ষে নগদ অর্থ বলতে যা বুঝায় এরুপ নিসাব সম্পদ কারো মালিকানায় এক বছরকাল থাকলে তার উপর যাকাত আদায় করা ফরয।

    কোনো কোনো ব্যবসায়ীদের কাছে কোনো কোনো সময় নগদ অর্থ থাকে না বলে তাদের কেউ কেউ যাকাত আদায় করেন না। তাদের কারো কারো ধারণা যেহেতু তার কাছে কোনো নগদ টাকা নেই, তার ব্যবসায়িক পণ্যও বিক্রি হচ্ছে না তাই কীভাবে যাকাত দেবেন? কোনো কোনো সময় মহিলাদের নিকট নগদ টাকা না থাকায় তারাও যাকাত দেন না। তারা বলে বেড়ান যে, আমার তো টাকা পয়সা নেই যাকাত দেব কেমনে?

    এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, শুধু টাকা পয়সা দিয়েই যাকাত দিতে হবে এমনটি নয়। যার আর্থিক মূল্য আছে এবং যে পণ্যটি ব্যপকভাবে ব্যবহার করার মতো, যার যথেষ্ট উপযোগিতা আছে এরুপ পণ্য দিয়েও যাকাত আদায় করা যাবে। মহিলারা এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য স্বর্ণের কিছু অংশ বা ছোট খাটো গহনা সরাসরি গরিবকে দিয়েও যাকাত আদায় করতে পারেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই। বরং সমস্যা হলো, এ বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতা। নগদ অর্থ না থাকলেও আপনার উপর যাকাত ফরয হয়েছে। তাই তা যেভাবেই হোক আদায় করুন।

    দুই. বাড়ি করার জন্য সঞ্চিত টাকার যাকাত:

    অনেকেই ঘর-বাড়ি তৈরির জন্য টাকা জমিয়ে রাখে। সঞ্চিত টাকার নেসাব পরিমান হলেও তার যাকাত দেন না। তাদের দাবি এ টাকা তো বাড়ি-ঘর নির্মানের জন্য রাখা হয়েছে জমাকৃত, আর বাড়িঘরের উপর তো যাকাত ওাজিব নয়। তাদের জেনে রাখা দরকার যে বসবাসের বাড়ি-ঘরের উপর যাকাত ওয়াজিব নয়, এ কথা ঠিক; কিন্তু সেটি প্রযোজ্য হলো বাড়ি নির্মানের পর। বাড়ি তৈরি করার পূর্ব পর্যন্ত এ উদ্দ্যেশ্যে যত টাকাই সঞ্চিত হয় আর তা যদি নেসাব পরিমান হয় তা হলে তাতে যাকাত দিতে হবে।

    টাকাগুলো যদি নেসাব পরিমাণ হওয়ার পর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই এর দ্বারা নির্মাণ সামগ্রী কিনে ফেলা হয় তাহলে তার আর যাকাত দিতে হবে না। তবে নেসাবের উপর বছর পুরা হওয়ার কাছাকাছি হয়ে গেলে যাকাত থেকে বাঁচার জন্য এমনটি করা হলে তা অন্যায় হবে। বছর অতিক্রান্ত হওয়া পর তা খরচ করে ফেললেও ঐ যাকাত মাফ হবে না। 

    তিন. ডেভলপমেন্ট বা উন্নয়নমূলক ঋণ থাকলে যাকাত:

    সাধারণত কোনো ঋণ থাকলে তা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ দেয়ার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ ঋণ পরিমান টাকার যাকাত মাফ। তবে এ বিধান সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়। কেননা ঋণ গ্রহণের কারণ সবার জন্য সমান নয়। কেউ ঋণ নেয় পেটের দায়ে, একান্ত মানবিক চাহিদা পূরনের জন্য, আবার কেউ ঋণ নেয় উন্নতির শিখরে ওঠার জন্য, জৌলুস বৃদ্ধির জন্য। এ দু ধরনের ঋণী ব্যাক্তি কি এক হতে পারে? মনে রাখতে হবে শিল্প বিপ্লবের পর হতে ঋণ নেয়ার ধরনই পাল্টে গেছে। এখন বড় বড় ধনাঢ্য ব্যাক্তিরাই বেশি ঋণী। ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের ঋণ দেয়ার জন্য তাদেরকে বাছাই করে। উদ্যোক্তাগণ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিশাল বিশাল অট্টালিকা তৈরির জন্য মিলিয়ন বিলিয়ন টাকা লোন গ্রহণ করে থাকেন। ব্যংকের ভাষায় এগুলোকে ডেভেলপমেন্ট লোন বা উন্নয়ন ঋণ বলা হয়। শিল্পপতিদের এসব লোন কোনো দিনও শেষ হবে না। এক ঋণ পরিশোধ করতে না করতেই আবার ঋণ মঞ্জুর বা রিনিউ হয়। তাই উন্নয়নমুলক ঋণ নেয়া থাকলও যাকাত দিতে হবে।   

    চার. পোস্টাল অর্ডার, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদির যাকাত:

    কারো কারো কারো ধারনা পোস্টাল অর্ডার, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদির যাকাত নেই। কারণ সাধারণত ৫ ধরনের সম্পদে যাকাত প্রযোজ্য। যথা:  ১.স্বর্ণ-রৌপ্য ২. নগদ অর্থ ৩. গবাদিপশু  ৪. ফসল ও ৫.সব ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য। এ ধরনের সম্পদের মধ্যে পোস্টাল অর্ডার ও সঞ্চয়পত্র নেই। এরুপ ধারনা হবার পেছনে যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হল: নগদ অর্থ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকা। স্মরণে রাখা চাই যে, পোস্টাল অর্ডার ও সঞ্চয়পত্র এক ধরনের নগদ অর্থ। এর উপর যাকাত প্রযোজ্য। তাই পোস্টাল অর্ডার ও সঞ্চয়পত্রের অবশ্যই যাকাত দিতে হবে।

    পাঁচ. দেনমোহর, কুরবানি এবং মান্নতের জন্য সঞ্চিত টাকার যাকাত:

    কেউ কেউ মনে করেন যে, স্বীয় স্ত্রীর দেনমোহর টাকা, কুরবানির এবং মান্নতের জন্য সঞ্চিত রাখা টাকার যাকাত নেই। তবে এরুপ ধারনা ঠিক নয়। কেননা সকল প্রকার সঞ্চিত টাকার যাকাত আদায় করা ফরয, যদি সেটা তার আওতাধীন থাকে। সে অর্থে স্ত্রীর দেনমোহর আদায়ের নিমিত্তে সঞ্চিত টাকা, হজ্জ ও ওমরার জন্য রক্ষিত টাকা, কুরবানি, মানত, কাফ্ফারা ও জমি ক্রয় বা ইত্যাদি যেকোনো উদ্দেশ্যে জমা করে রাখা টাকা যাকাতযোগ্য। এসব টাকার পরিমান যদি যাকাতের নেসাব পূর্ণ হয় এবং এক বছর সময় পর্যন্ত মৌজুদ থাকে তাহলে উক্ত সঞ্চিত টাকার যাকাত দিতে হবে।

    ছয়. ব্যাংকের ডিপিএস-এর যাকাত:

    সাধারণত প্রভিডেন্ট ফাণ্ডে সঞ্চিত টাকার যাকাত নেই। অনেকেই ডিপিএস-এর টাকাকে প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকার মতো মনে করেন, যেহেতু ডিপিএস-এর টাকা প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকার মতোই ধীরে ধীরে জমা হয় এবং ভবিষ্যতে এক সাথে পাওয়া যায়। সাধারণত তা মেয়াদ উত্তীর্ণ না হলে উত্তোলন করা যায় না বলে ভেবে থাকেন। এরুপ চিন্তা চেতনা হতেই এ ধারনার জন্ম নিয়েছে যে, প্রভিডেন্ট ফাণ্ডে সঞ্চিত টাকার মতোই ব্যংকের ডিপিএস। তাই ডিপিএস-এর মাধ্যমে সঞ্চিত টাকার যাকাত নেই।

    প্রকৃতপক্ষে এরুপ ধারনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা প্রভিডেন্ট ফাণ্ডে সঞ্চিত টাকা আর ব্যাংকে জমানো ডিপিএস এর মাধ্যমে জমানো টাকা এক নয়। ডিপিএস হলো কারো ব্যক্তিগতভাবে সেচ্ছায় জমানো টাকা, আর প্রভিডেন্ট ফাণ্ড হলো চাকুরিজীবি তথা কর্মকর্তা কর্মচারিদের বাধ্যতামুলকভাবে জমানো টাকা। কোনো চাকুরিজীবি ইচ্ছা করলেই প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকা উত্তোলন করতে পারেন না। কিন্তু ডিপিএস এর টাকা ব্যক্তি ইচ্ছা করলে যে কোনো সময়ে উত্তোলন করতে পারেন। ডিপিএস এর টাকার মালিকানায় সে স্বাধীন। প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকার সাথে ডিপিএস-এর তুলনা করে যাকাত মওকুফের চিন্তা করা একেবারেই ভিত্তিহীন। তাই ডিপিএস করে জমানো টাকারও যাকাত দিতে হবে।

    সাত. অন্যের নামে ব্যাংক হিসেবে সঞ্চিত অর্থের যাকাত:

    যদি কেউ অন্যের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলে তাতে অর্থ সঞ্চয় করে এক্ষেত্রে যাকাত নির্ধারণের দুটি সুরত-

    ১. যার নামে একাউন্ট খোলা হয়েছে তাকে যদি উক্ত অর্থের পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেয়া হয় তাহলে একাউন্ট হোল্ডারের উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। যিনি জমা করেন তার উপর ওয়াজিব হবে না। কারণ অর্থ জমা দেয়ার সাথে সাথে তার মালিকানা চলে যায়।

    ২. আর যদি একাউন্ট খোলার দ্বারা পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেয়া না হয় বরং শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় খরচ করার অধিকার দেয়া হয় কিংবা নিজের মালিকানা অবশিষ্ট রেখে অন্যের নাম ব্যবহার করা হয় শুধুমাত্র। এ ক্ষেত্রে নাম যারই হোক না কেন, অর্থের মালিক যিনি তিনিই যাকাত প্রদান করবেন।

    নিয়ম যাই থাকুক না কেন, এ ক্ষেত্রে অনেকেই যাকাত দেন না এই বলে যে টাকা তো আমার নামে নেই। টাকা হলো ছেলে-মেয়ে, বা স্ত্রীর নামে। মোট কথা এ বাহানায় যাকাত মাফ পাবার সুযোগ নেই। যেই দিক, যাকাত দিতে হবে।

    আট. সেচ্ছাধীন প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের যাকাত:

    সাধারণত প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত টাকার যাকাত নেই। এই সাধারণ নীতির প্রেক্ষিতে অনেকেই সেচ্চাধীন প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের যাকাত দিতে হবে না বলে প্রচার করে থাকেন এবং তারা এর উপর আমলও করে থাকেন। তবে তাদের এ কথা ও আমল মোটেও ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে যেসব প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারিভাবে বা চাকরি কর্তৃপক্ষ কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের বেতনের  নির্ধারিত একটা অংশ বাধ্যতামুলকভাবে  কেটে রেখে দেয়  এবং  তা উত্তোলন করার কোনো সুযোগ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের না থাকে, তাহলে উক্ত ফান্ডের জমাকৃত টাকার উপর যাকাত প্রযোজ্য হবে না। কেননা চাকরী শেষ না পর্যন্ত উক্ত জামাকৃত টাকার উপর চাকরীজীবির কোনো  কর্তৃত্ব থাকে না, বা এ কথা বললেও ভুল হবে না যে, চাকুরী চলাকালীন সময়ে উক্ত টাকার মলিক উক্ত চাকরিজীবি নয়। সম্পদের মালিকানা পুরোপুরি স্থাপিত না হলে সে সম্পদের যাকাত কেমনে হয়?

    পক্ষান্তরে কেউ যদি স্বেচ্ছায় কোনো প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা রাখে, যেখানে টাকা জমা রাখতে কোনো চাকরীজীবি বাধ্য নয় এবং জমা রাখলে যখন তখন তা উত্তোলও করা যায় এমন প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত টাকার যাকাত দিতে হবে। অর্থাৎ যে প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা রাখা তাদের সার্ভিস রুলে উল্লেখ নেই এমন চাকরীজীবির ক্ষেত্রে সেচ্ছায় প্রভিডেন্ট ফান্ড তৈরি করে তাতে টাকা জমা রেখে দিলে সে টাকা নেসাব পরিমান হলে তাতে অবশ্যই যাকাত ওয়াজিব হবে। অনুরুপভাবে বাধ্যতামুলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার উপরও অনেক সময় যাকাত ওয়াজিব হয় যদি কোনো চাকরীজীবি বাধ্যতামুলকভাবে নির্ধারিত অংশের অতিরিক্ত হিসেবে উক্ত ফাণ্ডে কোনো টাকা জমা রাখে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, কারো জন্য বাধ্যতামুলকভাবে জমা রাখার কথা ১০%, কিন্তু সে যদি তাতে ১৫% টাকা জমা রাখে, তাহলে অতিরিক্তভাবে জমা রাখা ৫% টাকার উপর তাকে যাকাত দিতে হবে।

    নয়. সিকিউরিটি মানির যাকাত:

    কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকুরির জন্য বা কারো স্থাপনায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাড়ি ভাড়ার সময় জামানত বা সিকিউরিটি বাবদ কিছু টাকা জমা রাখতে হয়, যে টাকা নির্ধারিত মেয়াদান্তে প্রতিষ্ঠান কিংবা মলিক ফেরত দিয়ে থাকে। এ খাতে জমাকৃত টাকার উপর যাকাত ধার্য হবে। তবে এ টাকার যাকাত কে দেবে এ বিষয়ে আমাদের সমাজে বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন যে, উক্ত টাকার যাকাত বাড়ির মালিক বা চাকরিদাতা প্রদান করবে। এ ধারনাটি ভুল।

    কেননা সিকিউরিটি মানি ভাড়াদাতার কাছে থাকলেও এর মালিকানা থাকে ভাড়াটিয়ার। তাই ভাড়াটিয়া পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত পায়। সুতরাং সিকিউরিটি মানির যাকাত ভাড়াটিয়া প্রদান করবে, বাড়ির মালিক বা চাকরিদাতা নয়। অন্যদিকে অ্যাডভান্স হিসেবে প্রদানকৃত টাকার মালিকানা ভাড়াটিয়া থেকে ভাড়াদাতার কাছে চলে যায়। তাই তো এ টাকা পরবর্তীতে ফেরত দিতে হয় না। সুতরাং অ্যাডভান্স হিসেবে নেয়া টাকার যাকাত ভাড়াদাতার উপর আবশ্যক হবে। 

    অনুরূপভাবে ব্যাংকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসাসে গ্যারান্টি মানি প্রদান করতে হয়। উক্ত টাকা একাউন্ট হোল্ডারের মালিকানাধীন থাকে। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে সে উক্ত টাকা উত্তোলন করতে পারে। গ্যারান্টির মেয়াদ-কালে সে ওই টাকা উত্তোলন করতে পারে না। এ কারণেই অনেকে এ টাকার যাকাত আসবে কি না সে বিষয়ে দ্বিধায় ভোগে। অথচ ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা সন্দেহাতীতভাবে যাকাতযোগ্য। যতদিন এ টাকার উপর একাউন্ট হোল্ডারের মালিকানা থাকবে ততদিন অন্যান্য টাকার মতোই এ টাকার যাকাত প্রদান করতে হবে। যাকাতের হিসাবের সময় অন্যান্য সম্পদের সাথে এ টাকারও হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে।কেররা তা আদায় করা তার উপর ফরয।

    দশ. হজ্জের জন্য জমানো টাকার যাকাত:

    হজ্জ আদায়ের জন্য সাধারণত অনেক পূর্ব থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়, টাকা জমাতে হয়। ইদানিং কালে ব্যাংকগুলোও হজ্জ একাউন্ট নামে একাউন্ট চালু করেছে। লোকেরা ব্যাক্তিগতভাবে বা ব্যাংকের মাধ্যমে যেভাবেই হোক হজ্জের জন্য টাকা জমা করেন। তবে অনেকেই এ খাতে জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করেন না এই ভেবে যে, তা তো পবিত্র হজ্জের জন্য রাখা হয়েছে, তার আবার যাকাত কিসের। তবে এই ধারনাটি ভুল।

    মনে রাখতে হবে টাকা যে খাতেই জমা হোক না কেন, তার মালিক যেহেতু সে নিজেই, আর সেটাতো এখনো ব্যয় হয়নি তাই তার যাকাত আদায় করতে হবে। হজ্জের জন্য জমানো টাকা ছাড়া তার অন্য কোনো টাকা নিসাব পরিমান না থাকলেও তাকে যাকাত দিতে হবে। (চলবে)

    লেখক

    কলেজ শিক্ষক; সভাপতি, প্রত্যাশা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ ও বাংলাদেশ সাহিত্য ছাউনি।(drazzak77@gmail.com)


    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর কোনো অবদান নেই, এমন একটি প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর কোনো অবদান নেই, এমন একটি প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে

    গাজীপুরে ঢাকা

    গাজীপুরে "পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক উপলব্ধি" অনুষ্ঠিত

    দেশীয়’র নববর্ষ প্রকাশনা ২০২৬-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত প্রকাশনা

    দেশীয়’র নববর্ষ প্রকাশনা ২০২৬-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

    ‘জিনিয়াস কিডস–২০২৬’ (সিজন–৩) এর রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান

    ‘জিনিয়াস কিডস–২০২৬’ (সিজন–৩) এর রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি

    দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ গাজীপুর জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান

    দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ গাজীপুর জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

    ‘মিম্বার প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শুরু, শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে আয়োজন প্রতিযোগিতা

    ‘মিম্বার প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শুরু, শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে আয়োজন

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক এম. এ. মান্নান আর নেই সঙ্গীতজ্ঞ

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক এম. এ. মান্নান আর নেই

    বাংলা একাডেমিতে ‘চব্বিশের সাংস্কৃতিক লড়াই’ শীর্ষক লিটারারি সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান

    বাংলা একাডেমিতে ‘চব্বিশের সাংস্কৃতিক লড়াই’ শীর্ষক লিটারারি সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

    নারায়ণগঞ্জে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান

    নারায়ণগঞ্জে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন

    সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসর

    সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত