২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৬ পি এম
বিশ্বাস ও মূল্যবোধ মানবসভ্যতার চালিকাশক্তি—সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এবং পৃথিবী টিকে থাকা পর্যন্ত এই দুই শক্তিই মানুষের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে আসছে। এই চেতনা ধারণ করেই এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে গানের সংকলন হৃদয়ের স্বরলিপি।
গীতিকারের ভাবনায় এটি কেবল গানের বই নয়; বরং হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি, বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করার একটি প্রয়াস। তাঁর মতে, বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে ব্যক্তি, জাতি ও সভ্যতা মহৎ থেকে মহত্তর হয়ে উঠতে পারে। প্রিয় রাসুল (সা.)-এর যুগ এবং খোলাফায়ে রাশেদার যুগ এ ভাবনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
হৃদয়ের স্বরলিপি গ্রন্থে স্থান পেয়েছে প্রায় ২৭০টি গান—যার মধ্যে রয়েছে হামদ, নাত, রোজা, ঈদ, কুরবানী, দেশাত্মবোধক ও মরমী ধাঁচের রচনা। বইটির প্রায় ৯৫ শতাংশ গানই নতুন। যে কেউ গানগুলো পরিবেশন করতে পারবেন; তবে লেখকের মৌখিক অনুমোদন নেওয়াকে সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বইটির মূল্য ৪৮০ টাকা। বইমেলা উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণ ও রকমারি ডটকমে এটি ৩৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে এবারের বইমেলায় গীতিকারের আরও দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সমসাময়িক বিষয়, জুলাই ও উসমান হাদী প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতার বই দ্রোহের বর্ণমালা এবং শিশুতোষ ছড়ার সংকলন স্বরবর্ণের ছড়া-ও বইমেলায় স্থান পেয়েছে।
গীতিকারের পারিবারিক ইতিহাস উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে, তাঁর পূর্বপুরুষ উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর ইয়ামেন থেকে আগত আউলিয়াদের মধ্যে একজন ছিলেন, যারা হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর সঙ্গে এ অঞ্চলে আগমন করেন। পরবর্তীতে তাঁরা বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
গীতিকারের প্রথম গানের বই হৃদয় বীণার গান প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত তিনটি বই—দ্রোহের বর্ণমালা, হৃদয়ের স্বরলিপি ও স্বরবর্ণের ছড়া—নিয়ে তিনি নতুনভাবে পাঠকের সামনে এসেছেন। ব্যক্তিগত পরিচিতি প্রকাশে অনাগ্রহী হলেও জানা গেছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আলিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ফাইনাল পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষে বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন।
বিশ্বাস, অনুভূতি ও নৈতিকতার সুরে নির্মিত হৃদয়ের স্বরলিপি পাঠকের হৃদয়ে আত্মশুদ্ধি ও চারিত্রিক দৃঢ়তার বার্তা পৌঁছে দেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।