১০ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৮ এএম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসুয়ারা গ্রামের হাজারী বাড়িতে ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তরুণ লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও সংগঠক আরিফ হোসেন সবুজ। তাঁর পিতা মোঃ আহছান উল্লাহ এবং মাতা পারুল বেগম।
আরিফ হোসেন সবুজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয় পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি মানবিক বিভাগে বায়তুশ শরফ লহরী জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ছুফুয়া ছফরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষায় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাজিল ও কামিল ডিগ্রি লাভের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান, সমাজ-সংস্কৃতি ও মানবিক ভাবনার পরিধি আরও বিস্তৃত করেন।
শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নানা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব সংগঠনের মাধ্যমে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সামাজিক উদ্যোগে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। যা পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেখালেখির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই। সাহিত্যসভা, পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমমনা লেখকদের সান্নিধ্য তাঁকে নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পত্রিকায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক জায়যায়দিন–এ লেখা প্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় অঙ্গনে তাঁর লেখক হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এরপর তিনি জাতীয় দৈনিক সমকাল, নয়াদিগন্ত, ভোরের কাগজ, মানবকণ্ঠ, প্রতিদিনের সংবাদ, সংগ্রাম, যুগান্তর—সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিয়মিত লিখে চলেছেন। পাশাপাশি নবারুণ, বেতার বাংলা, মনন, ফুলকুঁড়ি, কিশোর কণ্ঠ, কিশোর পাতা, শিশু, নকীব, দ্বীন দুনিয়াসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিনেও তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। আরিফ হোসেন সবুজের লেখায় মানবিকতা, প্রতিবাদ, বাস্তবতা ও মূল্যবোধের শক্ত প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। সমাজ, রাজনীতি, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মুক্তচিন্তার নানা প্রশ্ন তাঁর লেখায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। সমকালীন অন্যায়-অসঙ্গতি, মানুষের সংগ্রাম এবং তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন-সম্ভাবনার বিষয়গুলো তিনি দৃঢ় ও নান্দনিকভাবে তুলে ধরেন।
লেখকের মানবিক মূল্যবোধ, প্রতিবাদী অবস্থান এবং বাস্তবমুখী চিন্তাধারা পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। পাশাপাশি শিশুসাহিত্য ও অনুপ্রেরণামূলক লেখালেখিতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁর তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে “জুলাই মানে মুক্তি” তাঁর তৃতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। এছাড়া তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ হলো “ফুলের মতো জীবন গড়ো” এবং “বাকশাল থেকে স্বৈরাচার”। গ্রন্থগুলো প্রকাশের পর পাঠকমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাহিত্য অঙ্গনে তিনি তরুণ পাঠকদের মধ্যে সম্ভাবনাময় ও জনপ্রিয় লেখক হিসেবে ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলছেন।