১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৫২ পি এম
তাইরান—এর উদ্যোগে ‘শিখা ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন : শতবর্ষ পরে’... বিষয়ক তর্ক, তত্ত্ব আলোচনা ও জিজ্ঞাসা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কবি আফসার নিজাম’র সভাপতিত্বে ও লেখক শাহাদাৎ সরকারের সঞ্চালনায় সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি, গল্পকার, সম্পাদক ও সাংবাদিক মুজতাহিদ ফারুকী। তিনি প্রবন্ধের ওপর করা শফিউল্লাহ আল আজাদ, আজিজ হাকিম, হুসনে মোবারক, মুর্শিদ উল আলম, সীমান্ত আকরাম, আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীনসহ অন্যদের জিজ্ঞাসার উত্তর দেন।
এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে ছড়াকার ফরিদ সাইদ ‘শিকড়ের সন্ধানে, ভবিষ্যতের পথে’... তাইরান’র পথচলাকে এগিয়ে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। লেখক ও গবেষক এমদাদুল হক চৌধুরী তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে কূপমন্ডুকতা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাপকাকারে পড়ালেখা করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নির্ধারিত তত্ত্ব আলোচনায় কবি, সম্পাদক ও সংগঠক মুন্সী বোরহান মাহমুদ বলেন, ‘তর্ক ও তত্ত্ব আলোচনা দু’টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়।’ ঈমান যখন দৃঢ় হয় তখন এসব বিষয়ের গুরুত্ব কতখানি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শারমীন সুলতানা বলেন, ‘প্রত্যেকটি মানুষের ভাবনা তার নিজস্ব-ব্যক্তিগত। ফলে ‘শিখা’ পত্রিকার প্রবন্ধ থেকে আমরা আমাদের প্রয়োজনের ভালো দিকটি গ্রহণ করতে পারি কিংবা বর্জন করতে পারি। কিন্তু ঢালাওভাবে কাউকে দোষারোপ করতে পারি না। এটি সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ।’
নির্ধারিত বিষয়ের বিশেষ আলোচক হিসেবে প্রফেসর মোহাম্মদ জসিমউদদীন বলেন, ‘বুদ্ধিভিত্তিক উত্তরণের জন্য তৎকালীন শিখা পত্রিকার যে আন্দোলন, সমসাময়িক সময়ে তার একটি উপযুক্ততা আমরা লক্ষ্য করছি। শতবর্ষ পরে এসেও আমরা সেই সময়ের মতো বৃত্তের মাঝখানে ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাদেরকে বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে জ্ঞানার্জনে ব্যাপকাকারে ঘরে-বাইরের সব বিষয়ে পঠন-পাঠনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’
অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আর্টস বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. কে আহমেদ আলম বলেন, ‘ছুড়ে ফেলার অভ্যাস থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। প্রবন্ধকারের রচিত প্রবন্ধটি বর্তমান সময়ের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। এই মুহূর্তে আমাদের এগিয়ে চলার পথে প্রবন্ধটির আহ্বান সহায়ক হতে পারে। গোঁড়ামি ও কুসংস্কার থেকে বের হয়ে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবাদী মানসিকতা তৈরি করতে হবে। রক্ষণশীলতার অবসান ঘটিয়ে মননশীলতাকে আধুনিক ও নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করতে হবে।’
তাইরান সম্পাদক তাসনীম মাহমুদ উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘তাইরান একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা ও অভ্যাস তৈরি করতে লেখকদের ভেতরের যে আলো রয়েছে, সেটিকে জ্বেলে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে উৎসাহ যোগাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে কবি আফসার নিজাম বলেন, ‘প্রবন্ধকার চমৎকারভাবে প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেছেন, যে কারনে এতোগুলো প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা এবং তর্ক ও উত্তরের অবতারণা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যেই তাইরান’র আজকের আয়োজন। এবং সেটি সফল হয়েছে। দেখুন— আপনি যদি শত্রুকে প্রকৃতপক্ষেই শত্রু মনে করেন, তাহলে তাকে আপনার গভীরভাবে স্টাডি করতে হবে। আর এটিই তার বিপরীতে আপনার সফলতার অন্যতম সহায়ক পন্থা।’
সভায় কাজী নজরুল ইসলাম ও তাসনীম মাহমুদ-এর কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন জাতীয় পর্যায়ের আবৃত্তি শিল্পী কামাল মীনা। সংগীত পরিবেশন করেন শফিউল্লাহ আল আজাদ।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কবি ও সংগঠক সালেহ মাহমুদ, কবি জাফর পাঠান, কবি রবিউল মাশরাফী, কবি নোমান সাদিক, আল আমীন, আলী আম্মার মো: তাকি, তরুণ কথাশিল্পী রাসেল রবি, গবেষক শরীফ জামিল, কবি আরিফ হোসেন সবুজ, মো: মিল্লাত প্রমুখ।